Loading...
Wednesday, February 15, 2017

একুশে ফেব্রুয়ারি রচনা


একুশে ফেব্রুয়ারি রচনা-1


আমাদের মাতৃভাষা বাংলা ভাষায় আমরা মনের ভাব প্রকাশ করি ভষা আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা অর্জন করেছি আমাদের মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা পাক্সিতানি শাসকেররা চেয়েছিল উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করতে এর প্রতিবাদেরাষ্ট্রভাষা বাংলা চাইদাবি নিয়ে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে এদশের ছাত্রসমাজ ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধরা ভঙ্গ করে ছাত্ররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মিছিল বের করে পাকিস্তান সরকারের পুলিশ মিছিলে গুলি চালালে শহিন হন রফিক, সালাম, জব্বার, বরকতসহ অনেকে তাঁদের রক্তের বিনিময়ে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি পায় ভাষা শহিদেরা আমাদের গর্ব প্রতি বছর তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে লাখো মানুষ শহিদ মিনারে মিলিত হয় ২১শে ফেব্রুয়ারি তারিখে
 
একুশে ফেব্রুয়ারি রচনা
একুশে ফেব্রুয়ারি রচনা



একুশে ফেব্রুয়ারি রচনা-2

প্রবন্ধ রচনা: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

ভূমিকা : 'আমার ভাইয়ের
রক্তেরাঙানোএকুশেফেব্রুয়ারি,
আমি কি ভুলিতে পারি?'
একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির
জাতীয় জীবনে এক গৌরবময় ও
ঐতিহ্যবাহী দিন। বাঙালির
জাতীয় জীবনের সব চেতনার
উৎস হচ্ছে এ দিনটি। বাঙালির
গৌরব ও বেদনার ইতিহাস
জড়িয়ে আছে এ দিনটির সঙ্গে।

একুশে ফেব্রুয়ারির ঐতিহাসিক
পটভূমি : বাংলা ভাষার ন্যায্য
অধিকার আদায়ের সংগ্রামের
নামই একুশে ফেব্রুয়ারি। ১৯৪৭
সালের ১৪ আগস্ট তৎকালীন
ভারতবর্ষ দুই ভাগে বিভক্ত
হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম-
পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম
পাকিস্তান। আজকের স্বাধীন
বাংলাদেশ ছিল পূর্ব
পাকিস্তান। প্রায় ২০০ বছরের
ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর
পাকিস্তান রাষ্ট্রের
প্রতিষ্ঠাও বাঙালির জন্য সুফল
বয়ে আনেনি। ১৯৪৮ সালের ২১
মার্চ পশ্চিম পাকিস্তানের
তৎকালীন গভর্নর মোহাম্মদ
আলী জিন্নাহ ঢাকার কার্জন
হলের সমাবর্তন
অনুষ্ঠানে ঘোষণা করেন, 'Urdu
and Urdu shall be the only state
language of Pakistan.' অর্থাৎ উর্দু
এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের
একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। কিন্তু
বাংলার জাগ্রত
জনতা জিন্নাহর এ
স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত
মেনে নিতে পারেনি।
বাঙালির লাখো কণ্ঠ সোচ্চার
হয়ে তখন প্রতিবাদ করেছে। এরপর
১৯৫২ সালের ৩০
জানুয়ারি পাকিস্তানের
প্রধানমন্ত্রীখাজানাজিমুদ্দিনও
এক জনসভায়
উর্দুকেরাষ্ট্রভাষাহিসেবেপ্রতিষ্ঠাকরার
জোরালো ঘোষণা দেন।
ফলে ছাত্রদের মধ্যে শুরু হয় ধর্মঘট
পালন। ধীরে ধীরে এ আন্দোলন
সমগ্র
বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।
২১ ফেব্রুয়ারি পরিষদ ভবনের
সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শনের
সিদ্ধান্ত হয়।
সরকার ছাত্রদের এ
আন্দোলনকে নস্যাৎ করার জন্য
১৪৪ ধারা জারি করে। কিন্তু এ
আন্দোলনের ওপর সরকার যতই
দমননীতি চালাতে থাকে,
আন্দোলন ততই প্রকট আকার ধারণ
করে। ১৯৫২ সালের ২১
ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় ১৪৪
ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের
করা হয়। এ আন্দোলনকে প্রতিহত
করতে পুলিশ মেডিক্যাল
কলেজের সামনে ছাত্রদের ওপর
বেপরোয়া গুলি ছোড়ে। পুলিশ
নিরস্ত্র ছাত্রদের ওপর বন্দুক,
বেয়নেট, টিয়ারগ্যাস,
লাঠিসোঁটানিয়েঝাঁপিয়েপড়ে।
ছাত্ররাও পুলিশের
সঙ্গে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়।
ফলে সালাম, বরকত, রফিক,
জব্বারসহ আরো অনেকে নিহত
হন। এ হত্যাকাণ্ডের
কথাসারাদেশেছড়িয়েপড়লেসমগ্র
বাংলাদেশ
বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে।
ফলে বিক্ষুব্ধ জনতার
সামনে আতঙ্কিত সরকার
বাংলাকে অন্যতম
রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

স্বীকৃতি : পৃথিবীর মানুষের
কাছে আজ ২১
ফেব্রুয়ারি 'আন্তর্জাতিক
মাতৃভাষা দিবস'
হিসেবে স্বীকৃত। ১৯৯৯ সালের
১৭ নভেম্বর ইউনেসকোর ৩০তম
সাধারণ সম্মেলনে এ
স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
ফলে পৃথিবীর সব ভাষাভাষীর
মানুষ এখন এ
দিনটিকে 'আন্তর্জাতিক
মাতৃভাষা দিবস'
হিসেবে পালন করে থাকে।
জাতীয় চেতনায় একুশ :
একুশে ফেব্রুয়ারির
প্রেরণা থেকেই পরে ১৯৬৯
সালে গণ-অভ্যুত্থান ঘটে।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার
বাঙালির সংগ্রামচেতনার
কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য
ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের
ফলে বাঙালির
মধ্যে জাতীয়তাবোধের
উন্মেষ ঘটে, যা পরবর্তী সময়
১৯৭১ সালের
স্বাধীনতাসংগ্রামেবিশেষভাবেকার্যকরীছিল।
মূলত একুশের চেতনাই
বাঙালিকে পরবর্তী সব
সংগ্রামের
প্রেরণা জুগিয়েছে।

উপসংহার : একুশ আমাদের গর্ব,
অহংকার ও বেদনাদায়ক অধ্যায়।
তাই আজ এ কথা সর্বজনবিদিত
যে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত
ভাষা 'বাংলা' তত দিন
থাকবে, যত দিন পৃথিবীর
মানচিত্র থাকবে।

আরও পড়ুন 

একুশে ফেব্রুয়ারি নিয়ে কবিতা

একুশে ফেব্রুয়ারি গান

 

0 comments:

Post a Comment

 
TOP